আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি:-
গোলাম আরিফ টিপু – একুশে পদক প্রাপ্ত।
গোলাম আরিফ টিপু (জন্ম ২৮ আগস্ট ১৯৩১) একজন বাংলাদেশি আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা আন্দোলন কর্মী। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৫২ সালে রাজশাহীতে বাংলা ভাষা আন্দোলন মূলত তার নেতৃত্বে সংগঠিত হয়। তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১৯ সালে একুশে পদক প্রদান করে।
ইলা মিত্র
ইলা মিত্র (১৮ অক্টোবর, ১৯২৫ — ১৩ অক্টোবর, ২০০২) একজন বাঙালি মহীয়সী নারী এবং সংগ্রামী কৃষক নেতা। তিনি মূলত তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। ভোগ করেছেন অমানুষিক নির্যাতন।ইলা মিত্র বিষয়ে নাচোলে আলাউদ্দীন আহমেদ বটু একটি তথ্য সমৃদ্ধ বই প্রকাশ করেন যার নাম ইলা মিত্র ও নাচোল।

প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমদ
অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ (১৫ ডিসেম্বর ১৯৩৩ – ১৭ জুলাই ২০২০) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৯২ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমদ ১৯৩৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন মালদহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভারতের কিছু অংশ) জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ‘গোহাল বাড়ি’ এলাকায় পরিবারসহ দীর্ঘদিন বসবাস করেন প্রফেসর এমাজউদ্দিন। তিনি শিবগঞ্জের আদিনা সরকারি ফজলুল হক কলেজ ও রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র।
প্রফেসর মো.রফিকুন নবী (র’নবী) –
রফিকুন নবী (উপনাম রনবী) (জন্ম: ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৩ ) বাংলাদেশের খ্যাতনামা চিত্রকর, কার্টুনিস্ট। টোকাই নামক কার্টুন চরিত্রটি তার অনবদ্য সৃষ্টি। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে টোকাই কার্টুন স্ট্রিপ হিসেবে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে আসছে। শিল্পকলায় তার অনন্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।
রফিকুন নবী ১৯৪৩ সালের ২৮ নভেম্বর রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা রশীদুন নবী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। মা আনোয়ারা বেগম ছিলেন জমিদার পরিবারের সন্তান। তার স্ত্রীর নাম নাজমা বেগম।
আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ
মনজুর আলম বেগ (১ অক্টোবর ১৯৩১ – ২৬ জুলাই ১৯৯৮) হলেন বাংলাদেশে আলোকচিত্র আন্দোলনের পথিকৃৎ, যিনি এম এ বেগ বা বেগ স্যার এবং আলোকচিত্রাচার্য হিসাবেই বেশি পরিচিত। জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের জন্য ২০০৭ সালে তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের প্রথম ফটোগ্রাফি শিক্ষা কেন্দ্র বেগ আর্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফী (১৯৬০) এবং বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (১৯৭৬) প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ তার ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এবং ক্লাব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। যার কারণে চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ঢাকা সিনেসিক ক্লাব, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, রাজশাহী ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, নারায়ণগঞ্জ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এবং দিনাজপুর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গঠিত হয়।
বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান শেলি
বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (৩ ডিসেম্বর ১৯২৮ – ১১ জানুয়ারি ২০১৪ ) বাংলাদেশের ৭ম প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি বাংলাদেশের ৭ম প্রধান বিচারপতি এবং পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তথা দেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধারে গবেষক, লেখক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ, ভাষা সৈনিক, অভিধানপ্রণেতা।
১৯৪৯ হতে ৫২ পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা প্রবর্তনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা করেছেন। বাংলা ভাষার ওপর তার রচিত গ্রন্থাদির মধ্যে উল্লেখযোগ্য যথা-শব্দ (১৯৭৪), মাতৃভাষার স্বপক্ষে রবীন্দ্রনাথ (১৯৮৩), আমরা কি যাব না তাদের কাছে যারা শুধু বাংলায় কথা বলে (১৯৯৬), প্রথমে মাতৃভাষা পরভাষা পরে (২০০৪) ইত্যাদি।
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞা
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞা (আনু. ১৯৩৫ – ১৩ জুন, ২০১৬) একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ১৯৯০ সালের মার্চ থেকে ১৯৯২ সালে অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৪ সালে শিক্ষায় একুশে পদক লাভ করেন।
মনিরুজ্জামান মিঞা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। তারপর তিনি জগন্নাথ কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি ৫ বছর ফ্রান্সে পড়াশোনা করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ পরিবেশ ও ভূগোল বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯০ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায হিসেবে মনোনীত হন।
১৯৯২ সালের অক্টোবরে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সেনেগালে নিযুক্ত হন।

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মিজান উদ্দিন
প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মিজানউদ্দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম উপাচার্য হিসাবে ২০১৩ সালের ২০ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন।
মুহাম্মদ মিজান উদ্দিন ১৯৫৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের আইড়ামারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রইস উদ্দিন মাস্টার ও মাতার নাম মজিবা বেগম। ব্যক্তিগত জীবনে এক মেয়ের জনক মিজানের স্ত্রী মোমেনা জিন্নাত বিউটি বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
মমতাজউদদীন আহমদ
মমতাজউদদীন আহমদ (১৮ জানুয়ারি ১৯৩৫ – ২ জুন ২০১৯) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক। তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ যিনি এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৯৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন।