চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই কিশোর হত্যার দ্রুত বিচার দাবি

দ্রুত বিচার দাবি – চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই কিশোর হত্যার দ্রুত বিচার দাবি

 

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলার নাচোল উপজেলার মল্লিকপুর বাজারে মানববন্ধন থেকে এসব দাবি ও কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষসহ শিশুরাও অংশ নেয়।

মানববন্ধনে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহিন, মাসুম আলী বিদ্যুৎ, সামাদ আলী, ফাইসাল, বাশার ও বাইরুলের নামসহ ছবি সাঁটিয়ে ফাঁসি দাবি জানানো হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা গোমস্তাপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর রাস্তা অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দেন। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামি শাহিনকে গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

মানববন্ধনে নিহত রায়হানের ভাই আলী আকবর জানান, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া নিষ্পাপ ছোট ভাইটিকে তারা হত্যার পর প্রকাশ্যে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হত্যাকারীদের স্বজনরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই প্রশাসনকে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

স্থানীয় জাহাঙ্গির আলম বলেন, হত্যার তিন দিন পর হলেও মূল আসামিদের ধরা হচ্ছে না। যা রহস্যজনক।  খোলসী গ্রামের সবুজ আলীর দাবি, গ্রেপ্তার দুই জনকে রিমান্ডে নিলেই হত্যায় জড়িতদের নাম বের হয়ে আসবে।  এ সময় নিহত মাসুদ রানার বাবা এজাবুল হক ও রায়হানের বাবা ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে অঝোরে কেঁদেছেন, কিছু বলতে পারেন নাই।

এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, কষ্ট থেকে সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সময় বেঁধে কাজ হয় না। বরং আমরা অভিযুক্তদের পেলে এখনই গ্রেপ্তার করবো। পুলিশ অভিযুক্তদের সবার পরিচয় জানে এবং আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

১৭ ডিসেম্বর রাতে মল্লিকপুরে বিজয় দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছুরিকাঘাতে মারা যান খোলসী গ্রামের এজাবুল হকের ছেলে মাসুদ রানা ও চাঁদপাড়ার আব্দুর রহিমের ছেলে রায়হান। আহত হয় চার জন।

এ ঘটনায় বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) ১৮ জনকে আসামি করে নিহত মাসুদ রানার বাবা এজাবুল হক বাদি হয়ে নাচোল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার পরপরই মল্লিকপুর গ্রামের আজিজুল ও তাসিম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Leave a Comment