আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ব্যবসা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ব্যবসা:-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। এই জেলার বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তারা মূলত কৃষিকাজ করে তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী আছে যারা মৌসুমের সময় অর্থ উপার্জন করে। তার মধ্যে আম ব্যবসায়ী প্রধান।
চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা এই মৌসুমি আম ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসার উপযুক্ত স্থান। আমের মৌসুমে এই শিবগঞ্জ উপজেলা হয়ে উঠে লোকে লোকারণ্য। আমের মৌসুমে এখানে চাঁপাই নবাবগঞ্জের সবচেয়ে বড় আমের বাজার বসে যা বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায় না। আম ব্যবসায়ী ছাড়াও এখানে টমেটো ব্যবসায়ী,কাঁসা-পিতল ব্যবসায়ী, পান ব্যবসায়ী দেখতে পাওয়া যায়। তবে আমের ব্যবসায়ীই প্রধান। উল্লেখ্য যে সদর উপজেলার যাদুপুর গ্রামের পান এই অঞ্চলের সেরা পান। অধিকাংশ পান ব্যবসায়ীই এই অঞ্চলের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১৯৮৭ টি মসজিদ, ৪৭৪ টি মন্দির, ৫৬ টি বৌদ্ধ মন্দির এবং ২৮ টি চার্চ আছে । ছোট সোনামসজিদ, চাঁপাই মসজিদ, ১৫শতকের দারসবাড়ী মসজিদ ইত্যাদি হচ্ছে বিখ্যাত মসজিদ । জোড়া মঠ হচ্ছে বৌদ্ধদের অন্যতম আশ্রম এবং নওদা স্তুপ হল বৌদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত এই জেলাটিকে কখনো নবাবগঞ্জ এবং চাঁপাই নামেও ডাকা হয়। ভারত উপমহাদেশ বিভাগের আগে এটি মালদহ জেলার একটি অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে এটি মালদহ থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব পাকিস্থানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং রাজশাহী জেলার একটি মহাকুমা হিসেবে গন্য হয়।
১৯৮৪ সালে একটি একক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অনেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে ‘আমের শহর’ বা ‘আমের দেশ’ বলেও জানে। এই জেলায় বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত আমের একটি বড় অংশ উৎপাদিত হয় যার ফলে একে ‘Capital of Mango’বলা হয় এবং উৎপাদিত এই আমগুলো হয়ে থাকে খুবই সুস্বাদু যার কারনে একে ‘City Of Mango’ বা ‘আমের শহর’ বলা হয়।
